Friday, May 29, 2009

মুহাম্মদের নামের পরে সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলা কেন জরুরী নয়।

الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

যাবতীয় প্রশংসা ইহকাল ও পরকালের রব্ব আল্লাহ্‌র জন্য।

আল্লাহ্‌ মানবজাতিকে শুধুমাত্র তাঁরই প্রশংসা ও গুনগান করতে বলেছেন। আল্লাহ ছাড়া আর কারো , এমনকি নবী রসুলদের ও প্রশংসা বা গুনগান করা যাবে না , কারন তারা আমাদের মতই মানুষ ছিলেন।

মেহেরবান ও দয়ালু আল্লাহ সকল নবী রসুলদের কোরানে নাম ধরেই সম্মোধন করেছেন কোনরকম গুনগান ছাড়াই , মুহাম্মদ ও তার ব্যতিক্রম নয় (২:১৩৬; ২:২৮৫; ৩:১৪৪)। মুহাম্মদ আমাদের মতোই মানুষ ছিলেন (১৮:১১০; ৪১:৬), এবং তার নাম কোরানে মুহাম্মদ নামেই উল্লেখ করা হইয়াছে , যেমন অন্যান্যদের নাম উল্লেখ করা হইয়াছে (৩:১৪৪; ৩৩:৪০; ৪৭:২; ৪৮:২৯)।

মুহাম্মদের নামের পরে সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম যোগ করেছেন সুন্নি ও শিয়া মুসলমানরা। কারন হিসাবে তারা ৩৩:৫৬ নং আয়াতে “সাল্লু” শব্দের বিকৃত অনুবাদের উল্লেখ করেন , যেখানে সাল্লু ক্রিয়া পদ (verb) এবং এর প্রকৃত মানে হবে নবীর জীবিত অবস্থায় তাকে উৎসাহিত , সাহায্য বা সাপোর্ট করা। ৩৩:৫৬ নং আয়াতের প্রকৃত মানে বুঝতে হলে ৩৩:৪৩, ৯:১০৩ ও ২:১৫৭ নং আয়াতগুলো পড়া জরুরী। আপনারা আমার আগের একটা পোস্ট Click This Link পড়তে পারেন। এটা পরিস্কার যে , ৩৩:৫৬ নং আয়াতে কিছু বলতে বলা হয়নি , বরং কিছু করতে বলা হয়েছে।

সকল নবী রসূলকে শ্রদ্ধা করতে বলা হয়েছে কোরানে , তার মানে এই নয় যে , মুহাম্মদের নামের পরে তোতা পাখির মতো সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলতে হবে। সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলে লাভ কি? আর না বল্লে ক্ষতিটাই বা কি? এ ব্যপারে লাভ বা ক্ষতির কোন কথা কোরানে খুজে পাওয়া যায় না।

তবে মাওলানা মৌলভিরা লাভ বা ক্ষতির একটা কাল্পনিক ধারনা আমাদের সকলের মনে গেঁথে দিতে সক্ষম হয়েছে। প্রধান যে লাভের কথা বলা হয় তা হলো, হাশরের ময়দানে মুহাম্মদ তাদের জন্য সুপারিশ করবেন , অর্থাৎ যাদেরকে আল্লাহ্‌ শাস্তি দিয়ে দোযখে পাঠাবেন বা পাঠাতে চাইবেন , তাদেরকে মুহম্মদ সুপারিশ করে বাচিয়ে দেবেন। এই ধারনা সম্পুর্নরূপে কোরানের পরিপন্থি এবং এই ধারনা মুহাম্মদপূজার নামান্তর মাত্র , কারন আল্লাহ্‌ হাশরের ময়দানে তাঁর সঠিক বিচারের মাধ্যমে প্রাপ্ত শাস্তি থেকে কোন দোষী ব্যাক্তিকে বাচানোর ক্ষমতা কাউকে দেন নি। আরো লাভের কথা কারো জানা থাকলে এই পোস্টে কমেন্ট আকারে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
Click This Link

ক্ষতির কথা আমি যেটা শুনেছি তা হলো - “আগের কাল হলে মুহাম্মদের নামের পরে সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম না বল্লে গর্দান কাটা যেত। আর এখন কলিকালে লোম কাটা যায়।” এর থেকে আজগুবি কথা আমি আমার জীবনে কমই শুনেছি। আরো ক্ষতির কথা কারো জানা থাকলে এই পোস্টে কমেন্ট আকারে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

কোরানের শিক্ষা।

সুরা আল-যুমার(৩৯) আয়াত ১৮যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে , অতঃপর যা উত্তম , তার অনুসরন করে। তাদেরকেই আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।

সুরা বণী ইসরাঈল (১৭) আয়াত ৩৬যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তা অনুসরন করো না। নিশ্চয় কান , চোখ ও ব্রেন (মন) এদের ব্যবহার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হইবে।

উপরোক্ত আয়াতের মাধ্যমে ধর্মীয় আলোচনা ও বিচার বিবেচনা করে স্বীদ্ধান্ত গ্রহনকে উৎসাহিত করা হয়েছে। নিশ্চয় অন্ধ বিশ্বাস নিজের ব্রেন ব্যবহারের সমার্থক নয়।

বর্তমান মুসলমানরা প্রচলিত ধ্যান ধারনার বিপরিত কোন আলোচনা শুনতেই রাজী নন। না শোনেন তাতে আপত্তি নেই , কিন্তু জোর করে বিরুদ্ধ মতকে দমন করে অন্যদেরকে না শুনতে দিয়ে, অন্যের বিচার বিবেচনায় বাধা সৃষ্টি করে , কোরানের শিক্ষারই বিরুদ্ধাচরন করছেন।

বিপরিত ধারনা না শুনলে , কোনটা উত্তম তা বিচার করবেন কি করে। নিজের ব্রেনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে , মুক্ত আলোচনার বিকল্প নেই।

আরেকটা যুক্তি প্রায়ই দেয়া হয় , সরলপ্রাণ মুসলমানদের সন্দেহের মধ্যে ফেলবেন না বা বিপথগামী করবেন না। ভাইরে যার যার ভাবনা তাকেই ভাবতে দিন। পরকালে আপনার কাজের জন্যই আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হবে , অন্যের কাজের জন্য নয়। আমার কাছে যা সত্য মনে হচ্ছে আমি তাই লিখছি। এটা মানা বা না মানা যার যার নিজস্ব। আমি তো কারো দায়িত্ব নেব না। তবে সকলের চিন্তার জন্য কোরানের আলোকে নুতন কিছু মাল মশলা সকলের সামনে হাজির করা আমার কর্তব্য মনে করি। সত্যের পথে আহ্বান করা সকল মুসলমানের কর্তব্য।وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ সুরা আছর।